Ads (728x90)

লাইভ প্রতিবেদক:  চৈত্রমাস চলছে। কাঠফাটা রোদ। সামনে অপেক্ষায় প্রখর বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ। প্রচণ্ড এই গরমে সবারই ত্রাহি অবস্থা। প্রকৃতির এই রুক্ষ অবস্থার কারণে মাঝে মধ্যে মন মেজাজও গরম হয়ে যায়। স্বভাবটা হয়ে যায় খিটখিটে। সৃষ্টি হয় অস্থিরতা। গরমে শরীর অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কোনো কাজ করতে গেলে হাঁপিয়ে উঠতে হয়।
dress
প্রকৃতির এই রুক্ষ সময়টাতে যতটুকু সম্ভব রোদ এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। দিনের প্রয়োজনীয় কাজ সকালেই সেরে ফেলার চেষ্টা করুন। হাঁটার সময় ছায়াঘেরা স্থান দিয়ে হাঁটতে চেষ্টা করুন। অথবা ঝামেলা মনে হলেও ছাতা সঙ্গে রাখুন। পাতলা সুতির কাপড় পরিধান করুন। রোদে বের হলে মাথায় ক্যাপ ব্যবহার করুন। তরুণীরা রোদ প্রতিরোধের জন্য ওড়না বা শাড়ি মাথায় দিতে পারেন। আর রোদ থেকে ফিরেই গোসল করবেন না। আগে ঠাণ্ডা হোন তারপর গোসল।
Sunglassesচোখে সানগ্লাস ব্যবহার করলে ভালো ব্র্যান্ডের কিনুন। আর সানগ্লাস কেনার সময় ফ্যাশনের কথাই শুধু বিবেচনা করবেন না, তা দিয়ে যেন চোখসহ মুখের অনেকখানিই ঢাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখুন। রোদে যাতে ত্বক পুড়ে না যায় সে জন্য সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে। একটু বেশি এসপিএফযুক্ত (সান প্রোটেকটিং ফ্যাক্টর) সানস্ক্রিন দীর্ঘক্ষণ ধরে কাজ করে। তাই সানস্ক্রিন কেনার সময় এদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
UMbraleaগরমে ঘামাচি একটি সাধারণ সমস্যা। গরমের সময় বিভিন্ন কারণে ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আবার প্রচুর পরিমাণ ঘাম তৈরি হয় বলে ঘর্মগ্রন্থিকে ফুটো করে অনেক পরিমাণ ঘাম ত্বকের নিচে জমা হয়। এতে জ্বালাপোড়াও হয়। এভাবে ঘামাচি বাড়তে থাকে।  তেল বা নিম্নমানের লোশন ব্যবহারেও ঘামাচি বাড়ে। ঘামাচির হাত থেকে বাঁচতে বিশেষ ধরনের ঘামাচি পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে। খুব বেশি জ্বালাপোড়া বা চুলকানি হলে হাউড্রোকর্টিসন (১ শতাংশ) ব্যবহার করুন।
গরমে পেটের বিভিন্ন রোগ হয়। এর মধ্যে ডায়রিয়া, জন্ডিস, টাইফয়েড অন্যতম। এসব থেকে বাঁচতে পানি অবশ্যই ফুটিয়ে পান করুন। কারণ, পানি ও খাবার থেকেই এসব রোগ ছড়ায়। দিনে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে ১০ গ্লাস পানি খেতে হবে। সম্ভব হলে খেতে পারেন প্রতিদিন একটি করে ডাব। তবে পিপাসা মেটাতে রঙ্গিন পাণীয় কখনোই খাবেন না। খুব ক্লান্ত বোধ করলে স্যালাইন খেতে পারেন। খেতে হবে মৌসুমী ফল যেমন- শসা, লেবুর রস, বেল, লিচু, আম ইত্যাদি।
তবে রাস্তার ধারের খাবার ও ফাস্টফুড এড়িয়ে চলাই উত্তম। বাইরে খেলে থালা-গ্লাস পরিষ্কার আছে কি না, আর খাবারটা টাটকা আছে কি না সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখুন। রাস্তার পাশের গাজর, শসা, লাচ্ছি, আখের রস ইত্যাদি খাওয়া উচিত নয়। যেসব পানি দিয়ে এসব ধোয়া হয় বা যেসব পাত্রে এসব পরিবেশন করা হয় এতে জীবাণু থাকার যথেষ্ট আশঙ্কা থাকে। শুধু তাই নয় গরমের সময় সকাল, দুপুর বা রাতে ভারী তেল মসলার খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। চা-কফি না খাওয়াটাই সবচেয়ে ভাল।
childএ গরমে শিশুদের প্রতিও বিশেষ যত্ন নিতে হবে। এ সময় শিশুদের যথাসম্ভব ঠাণ্ডা স্থানে রাখুন। তাদের সুতির ও ঢিলেঢালা জামা পরান। বেশির ভাগ শিশুর প্রচুর ঘাম হয়, তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খেতে দিন। শুধু পানি খেতে না চাইলে ডাব বা বিভিন্ন ফলের জুস বানিয়ে দিন। এ সময় শিশুদের নিয়মিত গোসল করাতে ভুলবেন না। প্রচণ্ড গরমে বিভিন্ন রোগ দেখা দিতেই পারে। তবে একটু সতর্ক হলে গরমের এই খরতাপের সময়টাও ভালোভাবে আর নীরোগ শরীরে কাটানো সম্ভব। সচেতনতাই আপনাকে দেবে গরমের রোগ বালাই থেকে মুক্তি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন